সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

সময় থাকতে হুশিয়ার, ওজন নিয়ন্ত্রণ

Last Updated on April 29, 2021 by Motu Group Team

আমি একসময় প্রচন্ড অহংকারী ছিলাম..! হ্যাঁ সত্যি বলছি, আমার কাঠ কাঠ এথলেটিক ফিগারের জন্য, যেহেতু খুব ভালো সাঁতারু ছিলাম প্লাস এমন কোন খেলা ছিলোনা যা আমি খেলতাম না।হাঁটা,দৌড়ানো,গাছে চড়া কিছুই বাদ যেতো না,ফলাফল চর্বিমুক্ত স্লিম ফিট বডি।তখন আমার আশেপাশে যত মোটা মানুষ দেখতাম ওদের মানুষ মনে হইতো না,ওদের কে ফার্মের মুরগী ডাকতাম🐓এবং বিভিন্ন বিকৃত ব্যাংগাত্মক বিশেষণ যোগ করে ব্যাপক বিনোদন নিতাম, ছোট বড় কাওকেই ছাড়তাম না।🙈🙊🙉

এরপরে সেইসব মোটা মানুষদের অভিশাপে আল্লাহ্‌ প্রকট হয়ে আমার গায়ে চর্বির দলা উপহার হিসাবে পাঠিয়ে দিলেন😞😭
বিয়ের পরে খেলাধুলো বন্ধ,এরপরে সন্তান ধারনের পর যা হয় আরকি বাঙালী মেয়েদের, ফুলতেই থাকলাম…মোটা হতে হতে ফেটে যাওয়ার মত অবস্থা, সাথে নানারকম শারীরিক জটিলতা।মোটেই হেলথ কনশাস ছিলাম না, ধুমছে খাইতাম,ইচ্ছামত শুয়ে থাকতাম,আমার শুয়ে,শুয়ে মুভী দেখা ও বই পড়ার অভ্যাস ছিলো,ইচ্ছামত চলা,অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন,খাওয়াদাওয়া, ফলাফল মরার পথে যাওয়ার মত অবস্থা।তারমধ্যে আমার খাবারের রুচি এবং হজমশক্তি মাশাআল্লাহ..!আর যেহেতু বিরাট এক ফুডি ফ্যামিলির উত্তরাধিকারী সেহেতু বুঝুন খাবার আর আমি একে অন্যের পরিপূরক😜😜ঘাস দিলেও আমি নিজের রেসিপি প্রয়োগ করে মজার আইটেম বানিয়ে খেয়ে ফেলতে পারি…😜😂

যাইহোক অনেক দেরিতে হলেও হুশে ফিরলাম ডাক্তারের কথায়,এরপরে এত বেশি সচেতন হলাম উঠেপড়ে লাগ্লাম স্লিম আর ফিট হবার জন্য,এমন কোন পরিশ্রম নাই যা আমি করিনাই,সাথে ডায়েট।ফলাফল ও চমৎকার ৫০ কেজি কমিয়ে এক্কারে হাল্কাপাতলা হয়ে গেলাম,পরিচিতরা তো চোখের সাম্নেই আমার বদলে যাওয়ার মিরাকল দেখতে পেলো।👌✌

কিন্তু এরপরে ৩/৪ বছর ফিট থেকে আবার ওয়েট গেইন করলাম, আগেই বলেছি আমার অনেক ফিজিক্যাল প্রব্লেম আছে,সার্জারি আছে,আরো লাগবে।কিন্তু যখনি ওয়েট বাড়ে আমি ইচ্ছা করলেই পরিশ্রম আর ব্যালেন্স ডায়েট দিয়ে তা কমিয়ে ফেলতে পারি। এইভাবে কখনো ১২/১৫ কেজি কমাই, এগেইন বাড়ে, আবার কমাই…রীতিমত যুদ্ধ চলে নিজের সাথে…ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে যাই,মাঝেমাঝে বিষন্ন হয়ে যাই।আবার নতুন করে শুরু করি।

যেহেতু ওয়েট লুজ প্রসেসে আমি অনেক দিন থেকে আছি সেহেতু অনেক ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে যা আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করি,লিখি, চাই যে অন্তত ইয়াং জেনারেশন যেনো সময় থাকতে সচেতন হয়।বয়স বাড়া এবং রোগে আক্রান্ত হবার আগেই যেনো নিজেকে স্লিম এবং ফিট রাখার জন্য সচেতন হয়। আমি এখনো ওবেস অনেকে হয়তো বলবে নিজে ফিট না হয়ে অন্যকে পরামর্শ দিতে আসছে,আসলে ব্যাপার টা তানয়,যেহেতু আমি ভুক্তভোগী এবং কিছু ফিজিক্যাল প্রব্লেম এর জন্য অনেক পরিশ্রম আর ডায়েট করেও এখন আর আমার ওয়েট সহজে কমেনা, কিন্তু প্রায় সেইম পরিশ্রম এবং ব্যালেন্স ডায়েট করে আপ্নারা সহজেই স্লিম হতে পারবেন।যদি ইতিমধ্যে আপ্নারা বড় কোন রোগে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন,এবং তরুন বয়সী হয়ে থাকেন তাহলে যার যার শরীরের কন্ডিশন বুঝে ওয়েট লুজ প্রসেসে লেগে থাকুন,কিছুতেই নিজেকে ওভার ওয়েট বা ওব্বেস হওয়ার সুযোগ দিবেন না।যত কষ্টই হোক আজ,এখন থেকেই শুরু করুন।আপনাদের জন্য পথ দেখানোর অনেক মানুষ আছে আমাদের সময় এমন সচেতন করার কেউ ছিলো না।প্রতিটা এডভান্টেজ কাজে লাগান।

আর ব্যায়াম করলে,পরিশ্রম করলে শরীর অনেক ফ্লেক্সিবল থাকে, পাতলা লাগে।মানসিক অবসাদ কেটে যায়।আমি এমন সব ব্যায়াম এত্ত ইজিলি করতে পারি যা অন্নেক স্লিম ফিট মানুষ ও করতে পারেনা বডি ফ্লেক্সিবল না হওয়ার কারণে। স্লিম হই বা না হই আমি কখনো ব্যায়াম,হাঁটা পুরোপুরি ছেড়ে দেইনা, সময় না পেলেও কন্টিনিউ করে যাই,কোন কারণে ছেড়ে দিলে আবার শুরু করে দেই সময় বের করে।নাহলে বোধহয় এতদিনে ডাক্তারের কথামত আমি হুইল চেয়ারে বসেই দিন কাটাতাম। গ্রুপমেট সব্বাইর জন্য শুভকামনা.. 💜

#হ্যাপি_ডায়েটিং
#বি_ফিট
#বি_হেলদি👌✌

#গ্রুপমেট সবাই #ভালো থাকুন,#সুস্থ থাকুন 💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜💜

(এন্ড্রোমিডা সুমি)১১.৬.২০১৭

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin