সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

চিনি বা মিষ্টি আমাদের বন্ধু না শত্রু?

Last Updated on April 3, 2021 by Motu Group Team

চিনি বা মিষ্টি আমাদের সবার কাছেই প্রিয়। সবাই আমরা মিষ্টি খেতে চাই। সেটা কোন সুখবর শোনার পর হউক বা খাবার শেষে মিষ্টিমুখের জন্য হউক, কিম্বা প্রচন্ড গরমে কোল্ডড্রিংকস এর মাধ্যমে হউক। ভেবে দেখুন, চায়ে চিনি কম হলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কিম্বা মিষ্টি কথা শুনতেও ভাল লাগে। এই মিষ্টির প্রতি যে এত ভালবাসা সেটার উৎপত্তি কোথা থেকে?

গবেষনায় দেখা গিয়েছে চিনি গ্রহনের পর আমাদের মস্তিষ্ক এর প্লেজার সেন্টার একটিভ হয়ে উঠে। শুধু তাই নয়, কোকেইন আসক্ত ব্যক্তির কোকেইন সেবনের পর মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করে যেসব পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, ঠিক সেই রকম পরিবর্তন সুগার গ্রহনের পর একজন স্বাভাবিক মানুষের মস্তিষ্কেও দেখা যায়।

শুনে মনে হচ্ছে যদি তাই হত তবে সুগার খেয়ে মানুষ কোকেনসেবীর মত আচরণ করে না কেন?
কারন কোকেইন কেবলমাত্র মস্তিষ্কের প্লেজার পার্টটাকেই উত্তেজিত করে না মানুষের চিন্তাজগত এবং কার্যকরীতা নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। সুগার শুধুমাত্র মস্তিষ্কের প্লেজার অংশটাকেই উত্তেজিত করে। এজন্য মানুষের আচরণ, চিন্তা-চেতনার কোন পরিবর্তন হয় না।
সুতরাং পুষ্টিবিদগন এই অবস্থা বর্ণনায় একটি টার্ম ব্যবহার করেন। “সুগার এডিকশন” আমাদের অনেকেই এই সুগার এডিকশনে আক্রান্ত।

সুগার কি তাইলে আমাদের মোটা বানাচ্ছে না ফ্যাট মোটা বানাচ্ছে?

আমরা যা খাই সেটা মূলত ৩ রকম। শর্করা, আমিষ এবং ফ্যাট। এছাড়া রয়েছে পানি, মিনারেল এবং ভিটামিন। শর্করা (যা কিনা এক সময় সুগারে পরিণত হয়) আমাদের কাজের শক্তির যোগান দেয়। এই সুগার সারা দেহে সঞ্চালিত হয় ব্লাডের মাধ্যমে। ব্লাডের এই সুগারে মাত্রা নির্দিষ্ট। এই মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমানে সুগার ব্লাডে আসলেই নিসৃত হয় ইনসুলিন নামক হরমোন। এই ইনসুলিন ই হল আসল শয়তান। সে করে কি, অতিরিক্ত সুগারকে ফ্যাটি টিস্যুতে ঢুকায়ে দেয়। যার ফলে একসময় ফ্যাটি টিস্যু আকারে বড় হয় এবং আমরাও মোটা হতে থাকি। আর ও কিছু হরমোন আছে যেগুলা আমাদের মোটা বানায় সেগুলা নিয়ে আরেকদিন কথা হবে।

যাই হোক অন্যদিকে আমরা যখন ফ্যাট খাই তখন সেটা বিভক্ত হয়ে ব্লাডে ছোটাছুটি করতে পারে, কিন্তু তার মাত্রা নিয়ে হরমোনগুলির কোন সমস্যা নাই। সেই ফ্যাট খুব সহজেই জমা হতে পারে না। সুতরাং আমাদের মোটা বানাচ্ছে মুলত সুগার বা শর্করা। এজন্যই কিটো ডায়েট প্লান এ শর্করা বা সুগার বাদ দেয়া হয়।

সুগার আরেকভাবে আমাদের মোটা বানায়। সুগার বেশি খেলে ইনসুলিন নিসৃত হয় যা কিনা আরেকটি হরমোন লেপটিন কে বাধা দেয়। এই ল্যাপ্টিন ই আমাদের মস্তিষ্কে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। ইন্সুলিন লেপটিনকে বাধা দেয়ায় আমাদের মস্তিষ্ক ভাবে আমরা না খেয়ে আছি। এভাবে আমাদের বার বার ক্ষুধা লাগে, আর বার বার খাবার জন্য আমরা বেশি মোটা হই।

আর ও অনেক ব্যাপার আছে যা একদিনে বলে শেষ হবে না। সুগার ই আমাদের মোটা হবার প্রধান কারন। এই সুগারকে বর্জন করতে হবে। কিন্তু সেটা কিভাবে? আমি কয়েকটি কারন চিহ্নিত করেছি, যেগুলাকে সংশোধন করলেই সুগার এডিকশন থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

  • চিনি খাবার ব্যাপারে নিজেকে সংযত করুন। চিনির অপকারীতা নিয়ে অনেক বই, ব্লগ আছে সেগুলা পড়ুন। চিনি সম্পর্কে আপনার জ্ঞান যত বাড়বে আপনি তত চিনিবিমুখ হবেন।
  • নিজের পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনি যদি ফ্রিজে রসগোল্লা, চমচম বা কোক রেখে দেন তাহলে তো সেগুলা খাবেন সেটা নিশ্চিত। তাই মিষ্টি জাতীয় খাদ্য সরিয়ে ফেলুন নিজের আশেপাশে থেকে।
  • চিনি কম খাবার অভ্যাস করুন। চায়ে কম চিনি খাওয়া শুরু করুন। ভাতের বদলে রূটি, ওটস খাবার অভ্যাস করুন। কোক খাওয়া পরিহার করুন। বেশি বেশি শাকসব্জি খান।
  • বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন করার আগে একবার ভাবুন এই চিনিকে পরিহার করলে আপনার ডায়েবেটিস, হার্ট ডিজিজ হবার সম্ভাবনা কম হবে। শরীর স্বাভাবিক ও ভাল থাকবে, দীর্ঘদিন বাচার সম্ভাবনা বাড়বে।

বিঃদ্রঃ আমি চেষ্টা করেছি সহজ ভাষায় বিষয়গুলি বুঝাবার জন্য। তারপর ও যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কোন বিষয় না বুঝতে পারলে কমেন্ট করতে পারেন। আমি সময় পেলে অবশ্যই কমেন্টের জবাব দেব।

Author: Wazed Asif

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin