সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

Your Health Is Your Real Wealth | শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস

Last Updated on April 29, 2021 by Motu Group Team

এতো সবাই জানেন একটি সুখী, সুস্থ শরীর মনের জন্য কোন ও না কোন ধরনের শরীরচ্চর্চা প্রয়োজন। ব্যায়াম সে সঙ্গে সুমিত পানাহার হলো দীর্ঘ জীবনের রহস্য, শরীর মন তর-তাজা রাখার রহস্য। আদর্শ ওজন বজায় রাখা সবচেয়ে বড় কাজ। এছাড়া আনন্দে কালক্ষেপণের একটি ভালো উপায় হলো ব্যায়াম করা। সহজ সরল একটি ব্যায়াম আছে। হাঁটা। কম পরিশ্রমে উপযুক্ত একটি ব্যায়াম সব বয়সের মানুষের জন্য। নিখরচায়, শরীরচর্চা। যেখানে সেখানে করা যায় এই শরীরচর্চা। লেকের পার ধরে যে পায়েচলা পথ সেই পথ ধরে হাঁটার মধ্যে কত আনন্দ। ঝিরি ঝিরি বাতাস, বন্ধুর সঙ্গে হাঁটতে বড় আনন্দ। এমনকি বাসার চারধারে যে ফুটপাত সেখানে দশমিনিট হাঁটলেও কম কি? ইদানীং গবেষকরা বলছেন হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীর সুস্থাস্থ্যের জন্য হাঁটা, জগিং ও দৌড়ানোর সমান সুফল আনে।

পরিমিত আহার কম ওজন

কি অবাক হচ্ছেন; তাই না? গবেষণায় দেখা গেছে, বহু খাবার স্লিম হতে সাহায্য করে। প্রতিটি খাবারে নির্দিষ্ট ক্যালরি থাকে। সেই খাবার হজম করতে আমরা কিছু ক্যালরি ব্যয় করি। সাধারণত বেশির ভাগ খাবারে থাকা ক্যালরি কিছুটা খরচ হয় বটে কিন্তু বাকি অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ হিসেবে যুক্ত হয়। তবে এমন কিছু খাবার আছে যা হজম করতেই ওই খাবারে যে ক্যালরি আছে তার থেকে বেশি ক্যালরি খরচ হয়। এসব খাবারকে নেগেটিভ ক্যালরি খাবার বলা হয়। আমাদের প্রবণতা অতিরিক্ত ভাজাভুজি বা কষিয়ে খাওয়া, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম ঠিক না। পানি খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে। যে সব সবজি ও ফলমূলে পানি বেশি থাকে এবং যেগুলো ফাইবারসমৃদ্ধ, সেসব সবজি-ফলমূল খেতে হবে বেশি বেশি। খাবারে গোশতের পরিমাণ কম রেখে তরকারি খেতে হবে বেশি পরিমাণে। খাওয়ার পর একটু হেঁটে আসতে পারলে তো খুব ভালো।

মহিলাদের ওজন বাড়লে স্তন ক্যান্সার হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের নিশ্চিত ঝুঁকি

আমেরিকান ক্যান্সার ইনস্টিটিউট মহিলাদের ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে স্তন ক্যান্সার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের নিশ্চিত ঝুঁকি সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ৭২ হাজার মহিলাদের ওপর দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে দেখেছে ২০ বছরের পর থেকে যেসব মহিলাদের ওজন বছরে ১ থেকে ২ পাউন্ড বাড়ে তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী। প্রতিষ্ঠানটি গবেষণায় দেখেছে যেসব মহিলাদের ওজন ৩০ পাউন্ড বেড়েছে তাদের মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী। গবেষণার সহযোগী মিস রেজিনা জেইগলার-এর মতে মহিলাদের ওজন বাড়ার সাথে সাথে এস্ট্রোজেন নামক এক ধরনের হরমোনের বৃদ্ধি ঘটে। আর এই হরমোনের বৃদ্ধির ফলে মহিলাদের মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেসব মহিলাদের ওজন বাড়ে তাদের অন্যান্য ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেশী। তাই রিপোর্টে বলা হয়, মহিলাদের ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি প্রথম থেকেই ভাবা উচিত।

অধ্যাপক ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম (লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন) এর জানান, মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধে করণীয় অতিরিক্ত চর্বি জমে আমাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা দশভাগ বেড়ে গেলে তাকে আমরা মুটিয়ে যাওয়া বলে থাকি। সাধারণত মাঝবয়সে পৌঁছানোর পরপরই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা শুরু হয়। তবে কিছু কিছু কারণে যে কোনো বয়সেই একজন মানুষ মুটিয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ এবং কম শারীরিক পরিশ্রমই এর প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু হরমোন জাতীয় রোগ, পারিবারিক প্রবণতা এবং কোনো কোনো ওষুধও এর জন্য দায়ী। মহিলাদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে বেশি।

সাইকেল চালানো ভাল ব্যায়াম

সাইকেল অর্থাৎ বাইসাইকেল চালানো হাঁটা এবং সাঁতার কাটার মত একটি উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। নিয়মিত সাইকেল চালানো শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে রক্তের কলেস্টেরলের মাত্রা কমে। রক্তচাপও কমে। সপ্তাহে ৩৫ কিলোমিটারের মত পথ সাইকেল চালালে করোনারি হৃদরোগের সম্ভাবনা কমে যায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

৪টি অভ্যাস পরিত্যাগ করুন

বয়স ধরে রাখার জন্য কতনা চেষ্টা। ব্যায়াম, ডায়েট কন্ট্রোল, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সাপ্লিমেন্টারী ফুড। অথচ মাত্র ৪টি খারাপ অভ্যাস সব চেষ্টা সত্ত্বেও আপনার বয়স ১২ বছর বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এই চারটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে ধূমপান, মদ্যপান, অলসজীবন যাপন এবং কম পুষ্টিকর খাদ্য। পরিচালিত গবেষণায় এই ৪টি খারাপ অভ্যাসের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ ধূমপান, মদ্যপান, সপ্তাহে দু’ঘণ্টার কম শারীরিক পরিশ্রম এবং প্রতিদিন ৩ বারের কম সবজি ও ফলমূল আহারকে খারাপ অভ্যাসের পর্যায়ে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যারা ৪টি অভ্যাসের আওতায় পড়েছেন তাদের শুধু বয়সের ছাপ পড়বে তাই নয়, তারা নানা ব্যাধিতে আক্রান্তও হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

একবার মোটা মানে চিরকালই মোটা!

খুব বেশি মোটা মানুষ যত চেষ্টাই করুন না কেন, ওজন তারা কমাতে পারেন না। একথা মনে করেন কিছুসংখ্যক গবেষক। আর তাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন স্থূলকায় বেশ কিছু মানুষ যারা কিনা মেদ কমানোর নানারকম চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। জার্মানির ফার্মেসি মহল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত সাময়িকীর সাম্প্রতিক সংখ্যাতে লেখা হয়েছে, মানুষ বেশি খেলে বা খাবার উপভোগ করলেই মোটা হয় না। অন্যদিকে যিনি সব সময়ই কম খান তার ওজন কিন্তু সব সময় কমে না। শরীর তখন কম খাওয়াতেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। সে মানুষটিই যখন আবার বেশি খেতে শুরু করেন তখন সঙ্গে সঙ্গেই আবার ওজন বেড়ে যায় এমনকি আগের চেয়েও বেশি হতে পারে ওজন। ব্রিটিশ গবেষকরা বলেছেন, মানুষের শরীরে যা যা প্রয়োজন সে খাবার যদি পরিমাণে সামান্য বেশিও হয় তাতে অসুবিধা তো নেই-ই বরং পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর-মন দু’টোই ভালো থাকে।

প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সুস্থ থাকুন

ব্যায়াম বা শরীর চর্চা প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষের করা বাঞ্ছনীয়। ব্যায়াম শুধু শরীরকে সচল ও ফিট রাখে তাই নয়, ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের খারাপ চর্বি বা ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে এবং ভালো চর্বি বা গুড কোলেস্টেরল এইচডিএল-এর মাত্রা বাড়ে। পাশাপাশি ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ত্বরান্বিত হয় এবং দ্রুত রক্ত চলাচলের কারণে হার্টের রক্তনালীতে চর্বি জমতে পারে না। ফলে হার্টে ব্লক তৈরিও হতে পারে না, পাশাপাশি যাদের হার্টের রক্তনালীতে ব্লক বা খানিকটা চর্বি জমেছে সেক্ষেত্রেও ব্যায়াম রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পায়।

অনিদ্রা

ঘুম না হওয়া আরেকটি বড় সমস্যা। প্রতিটি মানুষের পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো প্রয়োজন। অনিদ্রা ঠেকাতে হলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুম না হলে শরীরে সতেজ ভাব থাকে না, কোন কাজে মন বসে না।

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin