সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

অতিরিক্ত ওজন থেকে স্তন জরায়ু প্রোস্টেট ও কোলন ক্যান্সার হতে পারে তাই সময় থাকতে সাবধান হতে হবে

Last Updated on June 20, 2017 by Motu Group Team

অধ্যাপক মুনিরুদ্দীন আহমেদ,( ক্লিনিকাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ) জানান,
স্থুলতার সাথে ১১ ধরনের ভয়ংকর ক্যান্সারের সম্পর্ক রয়েছে? এসব ক্যান্সারের মধ্যে এমন সব ক্যান্সার রয়েছে যার নাম আগে কখনো শোনা যায়নি। মূলত স্থুলতার সাথে পরিপাকতন্ত্র ও হরমোন উৎপাদনকারী অঙ্গের ক্যান্সারের সম্পর্কটি অনেক গভীর। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বডি মাস ইনডেক্সের (বিএমআই) সূত্র মতে পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন বাড়লে পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৯ শতাংশ এবং পৈত্তিক ক্যান্সারের ঝুঁকি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
প্রতি পাঁচ কিলোগ্রাম ওজন বাড়ার কারণে হরমোন থেরাপি না নেওয়া সত্ত্বেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মহিলাদের কোমর-নিতম্বের অনুপাত (স্বাভাবিক ০.৮৭) মাত্র ০.১ বাড়লে গর্ভাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি ১১শতাংশ বেড়ে যায়।
স্থুলতার সাথে শুধু ক্যান্সার নয়, আরো অসংখ্য মারণঘাতি রোগের সম্পর্ক রয়েছে। স্থুলতার সাথে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, অস্টিওপোরোসিস, উচ্চ রক্তচাপেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এবার বডি মাস ইনডেক্স নির্ণয়ের সূত্রটি বলি। শরীরের ওজনকে (কিলো) উচ্চতার(মিটার) বর্গফল দিয়ে ভাগ করলে যে ফলাফল পাওয়া যাবে, তাকে বডি মাস ইনডেক্স বলা হয়। যদি কারো ওজন ৬৯ কিলো এবং উচ্চতা ১.৬৮ মিটার হয় তাহলে তার বডি মাস ইনডেক্স হবে: ৬৯÷২.৮২ (১.৬৮×১.৬৮=২.৮২)= ২৪.৪৬।
বিএমআই একদম পারফেক্ট। বডি মাস ইনডেক্সের স্বাভাবিক রেঞ্জ হল ১৮.৫ -২৪.৯। এখন আপনার বডি মাস ইনডেক্স নির্ণয় করে জেনে নিন আপনার শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি না কম।
বডি মাস ইনডেক্স ১৮.৫ এর কম হলে আপনার ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, যা ভালো নয়।ওজন বাড়াতে হবে। বিএমআই ২৫ থেকে ২৯.৫ হলে আপনার ওজন বেশি, তবে স্থুল নন। আর ৩০ এর বেশি হলে আপনি স্থুল। সুতরাং ওজন কমিয়ে স্বাভাবিকে আনতে হবে । ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী, (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)জানান , শরীরে যখন অতিরিক্ত চর্বি জমতে থাকে তখন এই চর্বি শরীরের অন্যান্য অংশের সঙ্গে রক্তনালিতে জমতে থাকে, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের শঙ্কা বেড় যায় অনেকটা।
* অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
* বাড়তি ওজনের জন্য হৃদ্রোগ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় অনেকটাই।
* আর্থ্রাইটিস, গেঁটেবাত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। হাড়ের সন্ধিস্থল ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
* শ্বাসকষ্ট হওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। রোগী স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগতে পারে।
* ডায়াবেটিস টাইপ টু দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত ওজন বাড়ার জন্য।
* যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
এ ছাড়া পুরুষের শুক্রাণু কমে যেতে পারে এবং নারীদের ঋতুস্রাবেও অনিয়ম দেখা দিতে পারে।
মেদবহুল ব্যক্তির জরায়ু, প্রোস্টেট ও কোলন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
ওজন কমানোর জন্য প্রথমেই নিজের আদর্শ ওজন কত এবং আদর্শ ওজনের চেয়ে কত বেশি আছে এটি জেনে নিন। এ ছাড়া কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না, সে সম্পর্কেও ভালোভাবে জেনে তারপর ওজন নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হবে।

কেন ওজন কমাবেন?
* স্থূল ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি হয়। আবার ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে তার সঙ্গে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতাগুলোও বেশি মাত্রায় দেখা দেয়।
* শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা ডিজলিপিডিমিয়া প্রায়ই দেখা দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়। রক্তনালির দেয়ালে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার কারণে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি হয়। এমনকি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তনালিতে থ্রম্বোসিস হয়ে তা বন্ধ হয় এবং বিভিন্ন জটিল রোগ হতে পারে। যেমন হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, মাথার রক্তনালি বন্ধ হয়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে।
* অতিরিক্ত ওজন বহন করার জন্য অস্থিসন্ধিতে পরিবর্তন দেখা দেয়। অস্থির সংযোগ স্থলে বা জয়েন্টে বেশি ওজনের ফলে নতুন অস্থি তৈরি হয়। আকারে পরিবর্তন হয়ে ‘অস্টিওআর্থ্রাইটিস’ নামক রোগটি দেখা দেয়। জয়েন্টে ফ্লুয়িড জমে যেতে পারে, পরবর্তী সময়ে অস্থিসন্ধি শক্ত (স্টিফ) হয়ে যায়। মেরুদণ্ড, কোমর ও হাঁটুতে ব্যথা বা প্রদাহ বেশি মাত্রায় দেখা দেয়।
* বেশি চর্বি জমা হওয়ার কারণে পেটের এবং পায়ের মাংসপেশির সংকোচন ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে হার্নিয়া হতে পারে
এবং পায়ের শিরায় ভেরোকোসিটি দেখা দেয়।
* সাধারণ লোকদের তুলনায়, বিশেষত চল্লিশোর্ধ নারীদের পিত্তথলির পাথর বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে।
* লিভারের কোষে চর্বি জমা হওয়ার কারণে ফ্যাটি চেঞ্জ হয়। ফলে লিভারের বিভিন্ন জটিলতা, এমনকি সিরোসিস-জাতীয় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
খাদ্যনালি, কোলন, লিভারের ক্যানসার এবং লিস্ফনোডের ক্যানসার থেকে মৃত্যুঝুঁকি স্থূল লোকদের বেশি।
* নাক ডাকা, স্লিপঅ্যাপনিয়া জাতীয় রোগ বেশি হয়। শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা, দিন ও রাত উভয় সময়েই বেশি ঘুম, ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা, মুখ হা করে শ্বাস-প্রশ্বাস ও পলিসাইথিমিয়া হতে পারে।

এবার ডিসিশান আপনার, বাচার মত প্রতিদিন বাচবেন নাকি মরার মত বাচবেন?

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin