সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

রমজানে ওজন বৃদ্ধি এভয়েড করবো কিভাবে

Last Updated on April 29, 2021 by Motu Group Team

সামনেই পবিত্র মাহে রামাদান ।
রমজান মাসে বেশীর ভাগ মানুষের একটা কমন অভিযোগ থাকে সেটা হলো রোজা রাখলেও ওজন বাড়তে থাকা । আপনি যদি তাদের একজন হয়ে থাকেন তবে লেখাটি আপনার জন্য । ইফতার এ যদি পরিমিতভাবে সুষম খাদ্য নিতে পারেন ক্যালোরীর পরিমান ঠিক রেখে তবে ওজন কে নিয়ন্ত্রন রাখা সম্ভব এমনকি ওজন কমানোও সম্ভব এই পবিত্র মাসে।

রমজানে ওজন কেন বাড়ে :
১-সাহরী এবং ইফতারে আমরা লাগাম ছাড়া খাবার খাই, সাধারনত নরমালী আমরা যা খাই তার চেয়ে লার্জ পোরশন নিয়ে নেই যার ফলে শরীরে ক্লান্তি আসে, সারাক্ষন পেট ভরা অনুভুত হতে থাকে.. আমরা ইফতারের পর ইনএকটিভ হয়ে যাই , তন্দ্রা চলে আসে।
২- আমরা প্রচুর ভাজাপোরা খাবার খাই যা হাই ফ্যাট এবং হাই ক্যালোরীর ( পেয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ, জিলাপী, হালিম , সিংগারা, সমুচা , বিরিয়ানী/ তেহারী ইত্যাদি) । অনেকে এটাও বলে থাকি রমজানে আল্লাহপাক খাবারের কোন হিসেব নেন না তাই আমরা বেহিসাবী খেয়ে ফেলি।
৩- ইফতার করতে রেস্টুরেন্ট এ চলে যাই / বাসায় গেস্ট দাওয়াত করি যেখানে আমরা বিভিন্ন রকমের হাই ক্যালরীর এবং রীচ ফুড খেয়ে থাকি হিসেব ছাড়া । আজকাল কিন্ত সাহরী ও বাইরে খাবার ট্রেন্ড শুরু হয়েছে..

কিভাবে পুস্টিকর খাবারের অভ্যাস করবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রন রাখবেন :

১- বেহিসাবী খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন -হাল্কা কিছু দিয়ে ইফতার করুন যেখানে ফুড পোরশন কোয়ান্টিটি মেনটেন থাকবে।
২- খুব ধীরে ধীরে ভালভাবে চিবিয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন বদহজম থেকে রক্ষা পাবার জন্য
৩- সুপ এবং সালাদ দিয়ে খাবার খাওয়া শুরু করুন; এরা লো ক্যালরীর খাদ্য কিন্ত পেট কে ভরা ভরা রাখবে
৪- ইফতার থেকে সাহরী পর্যন্ত ( non fasting hours) পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন ( কমপক্ষে ২ লিটার)
৫-তাজা ফল এবং ফলের রস, জুস খাবেন কোন প্রকার চিনি/ সুগার সাবস্টিটিউট না দিয়ে ঘরের তৈরী। কেনা / রেডিমেড জুস খাবেন না কারন এগুলোতে হাই কনটেন্টে সুগার থাকে ।
৬- লো ফ্যাট দুধ এবং ডেইরী প্রোডাক্ট নিন , সহজে হজম হবে।
৭- লীন মীট খাবেন। কোন রকম চামড়া / হাড় খাবেন না।
৮- মিস্টি খাবার ক্র্যাভিং হয় অনেকেরই এসময় তাই ক্র্যাভিং হলে ফ্রুট সালাদ নিন মিস্টি জাতীয় ফল দিয়ে তৈরী করে.. (তবু জিলাপী/ এরাবিয়ান কোন সুইট্স নেবেন না, হাই ক্যালোরী থাকে)
৯- প্রতিদিন ইফতারের ৪৫ মিনিট আগে বা ইফতারের ৪৫ মিনিট পরে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা হাটুন/ ওয়ার্ক আউট করুন যেনো এক্সট্রা যে ক্যালোরী নিচ্ছেন বা নিয়ে ফেলেছেন সেটা যেনো বার্ন করে ফেলতে পারেন ।

স্বাস্হকর উপায়ে রান্না করা কিন্ত ওজন কে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষেত্রে রোল প্লে করে:
যখন আপনি আপনার পছন্দের কোন খাবার বানাবেন চেস্টা করুন ডায়েট ফ্রেন্ডলী যেনো হয় ..ডিপ ফ্রাই করা ফুড এভয়েড করুন যতটুকু সম্ভব বরং এর বদলে বেক করে ফেলতে পারেন এতে করে ক্যালরীর কাট হবে অনেকটাই ( সিংগারা/সমুচা ইত্যাদি) । গ্রীল করতে পারেন, তন্দুর করতে পারেন, স্টিমড করতে পারেন। ঘি/ ডালডা/ সয়াবিন তেলের পরিবর্তে অলিভ ওয়েল বা রাইস ব্র্যান ওয়েল ব্যবহার করুন। এটা অনেকেই ভাবে ক্যালোরী কাট করছেন, ফ্যাট রিডিউস করছেন তাহলে খাবারের স্বাদ কমে যাবে ..না মোটেও কমবে না, ডায়েট ফ্রেন্ডলী ফুড কিন্ত টেস্টি হয় যদি তৈরী করতে পারেন ঠিক মতন। ফ্লেভার এনহেন্স করতে সিসনিং এড করতে পারেন, ফ্রেশ ভেজি, ফ্রেশ হার্বস দিতে পারেন.. এতে করে ক্যালোরী বাড়বে না কিন্ত স্বাদ বাড়বে ।

সর্বশেষে বলি
পরিমিত সুষম খাবার ধীরে ধীরে খাবেন, এর ফলে আপনি সারাদিন একটিভ থাকতে পারবেন, ক্লান্তি আসবে না, ঠিকমতন ইবাদাত করতে পারবেন.. সর্বোপরি সুস্হ থাকতে পারবেন।
পবিত্র এই মাস সংযমের মাস, আমরা সংযমি হই আসুন..আল্লাহ সুবহানাতায়লা যেনো আমাদের রোজা, ইবাদাত কবুল করে নেন।
রামাদান কারীম সবাইকে। 😊

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin