সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

থ্যালাসেমিয়া ও আমাদের সচেতনতা

Last Updated on June 19, 2017 by Motu Group Team

এই পোষ্টটি এই গ্রুপে প্রাসঙ্গিক না ও হতে পারে তবে অতীব জরুরী।

থ্যালাসেমিয়া ও আমাদের সচেতনতাঃ
থ্যালাসেমিয়া একটি মারাত্মক বংশগত রোগ। বাবা মা উভয়েই যদি এ রোগের বাহক হয়ে থাকেন তবে প্রতি গর্ভকালে শিশুর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহন করার আশংকা ২৫%। এ রোগের বাহকেরা সুস্থ জীবন যাপন করেন । আমরা এখন ও এতটা সচেতন হইনি যে স্বেচ্ছায় রক্ত পরীক্ষা করে আমরা বাহক কিনা তা জানতে সচেষ্ট হব। ফলে থ্যালাসেমিয়া রোগির সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে আমাদের দেশে ১০% জনগণ থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। একসময় মনে করা হতো শুধুমাত্র রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের সাথে বিয়ে হলেই সন্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বাহকের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় Random বিয়ে মানে অনাত্মীয়ের সাথে বিয়ের ফলেও শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহন করে। বলতে গেলে আমরা একটা ভীতিকর অবস্থানে আছি। আরেকটা উল্লেখযোগ্য ব্যপার হলো, শুধু থায়ালাসেমিয়াই নয়, এখানে যথেষ্ট হিমগ্লোবিন ই এর বাহক রয়েছে এবং এর সংখ্যা থ্যালাসেমিয়ার বাহকের চেয়ে অনেক বেশি। থ্যালাসেমিয়া বাহকের সাথে হিমগ্লোবিন ই এর বাহকে বিয়ে হলে ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া হয় যা বিটা থালাসেমিয়া মেজর এর মতই ভয়ংকর। থ্যালাসেমিয়া রোগের এখন ও কোন চিকিতসা নেই। বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর এদের রক্ত দিতে হয়।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিকার করা যায়না। তবে আপনি আমি আমরা সবাই একটু সচেতন হলেই এই রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। যেমন করেছে সাইপ্রাস। চীন ও অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়ঃ
১। বিবাহ পূর্ববর্তী স্ক্রীনিং
২। বিবাহিত দম্পতির স্ক্রীনিং
৩। প্রিন্যাটাল স্ক্রীনিং- এর মাধ্যমে গর্ভস্ত শিশুর থ্যালাসেমিয়া হবে কি না তা জানা যাবে।
প্রথম দুটি স্ক্রীনিং সহজ ও সব ডায়াগ্নোষ্টিক সেন্টারে হয়। কিন্তু প্রিন্যাটাল স্ক্রীনিং যে আমাদের দেশে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে ও সঠিকভাবে হয় তা হয়তো অনেকেই জানেন না। অনেকে এই পরীক্ষার জন্য ভারতে বা সিঙ্গাপুরে যান যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
প্রিন্যাটাল ডায়াগনোসিসঃ
কোথায় হয়ঃ থ্যালাসেমিয়া ল্যাবরেটরী, ঢাকা শিশু হাসপাতাল
কিভাবে হয়ঃ গর্ভস্ত মায়ের জরায়ু থেকে কোরিওনিক ভিলাস (১১-১৩সপ্তাহের গর্ভ) /এমনিওটিক তরল –যে তরলে ভ্রূন ভেসে থাকে (১৫-১৮ সপ্তাহ) সংগ্রহ করা হয়। এর পর এর থেকে ডিএনএ আলাদা করা হয়। এই ডি এন এ গর্ভস্ত ভ্রূণের । এটি পি সি আর (PCR) ও sequencing করে গর্ভস্ত শিশু থ্যালাসেমিয়া মেজর/ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া/থ্যালাসেমিয়ার বাহক/ স্বাভাবিক তা ১০০% সঠিকভাবে জানা যায়।
খরচঃ
Amniocentesis/ chorionic villous sampling: ৫০০০/=
PCR (Polymerase chain reaction): ১৪০০০/- (এখানে মা ও বাবার রক্ত নিয়েও PCR and sequencing করে তাদের মিউটেশন গুলো শনাক্ত করা হয়।
পরিশেষে, যাদের একটা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তান আছে তারা জানেন কি অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের।
৮ ই মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া ডে । আসুন আমরা সবাই মিলে একটি থ্যালাসেমিয়া মুক্ত জাতি গড়ে তুলি। নিজেও সচেতন হই অন্যদের ও সচেতন করি।

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin