সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে কিছু ভুল ধারণা

Last Updated on June 19, 2017 by Motu Group Team

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে আমাদের। অথচ এসব ভুলের কোনো ভিত্তি নেই। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এমন কিছু ভুলের শুলুক-সন্ধান করে পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাপোলো হাসপাতাল, ঢাকার প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী

ভুল ১ : কাঁচা লবণ খাই না, লবণ ভেজে খাই।

ওপরের এই উক্তি অনেকেই অনেক করে থাকেন।
বিশেষ করে ব্লাডপ্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ডাক্তার বা ডায়েটেশিয়ান যখন পাতে লবণ না খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাঁরা তখন এই ভুলটি করেন। উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বা হৃদরোগীদের সোডিয়াম নিন্ত্রয়ণের লক্ষ্যে সাধারণত আলাদা লবণ পরিহার করতে বলা হয়। আলাদা খাওয়া হয় বলে এই লবণকে অনেকে বলেন কাঁচা লবণ। তাঁদের ধারণা, টেলে বা ভেজে খেলে এই লবণ ক্ষতি করে না। আসলে টেলে বা ভেজে খেলেও সোডিয়াম একই থাকে। যা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতি। তাই টেলে বা ভেজে কোনোভাবেই কাঁচা বা আলাদা লবণ খাওয়া ঠিক নয়।

পরামর্শ : রান্নায় পাঁচ গ্রাম লবণ বা এক চা চামচ লবণ দৈনিক গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত।

ভুল ২ : চিনি খাই না মোটা হয়ে যাব বলে, তাই ডায়েট চিনি খাই।

অনেকেই ওজন কমাতে বা ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এ কাজটি করে থাকেন। অথচ ডায়েট চিনি বা আর্টিফিশিয়াল চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন খেলে নার্ভের অনেক ক্ষতি করে। অনেকেই আবার কফি বা দুধ চায়ে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করে থাকেন। অথচ দুধ চা বা কফি থেকে চিনির অংশ বাদ দিলেও অনেক ক্যালরি থাকে এবং দুধের চা বা কফি ক্যালরি ছাড়াও শরীরের আরো নানা অসুবিধা তৈরি করে।

পরামর্শ : একটু চিনি সারা দিনে খেলেও হেঁটে ক্যালরি ব্যয় করুন। অথবা চিনির পরিবর্তে গুড় বা সামান্য মধু খান।

ভুল ৩ : রাতে খাই না ওজন বেড়ে যাবে বলে।

এটা অনেক বড় একটা ভ্রান্ত ধারণা। রাতে না খেয়ে শুলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এসিডিটি, ঘুম না হওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথা ব্যথা বা ঘোরানো, এমনকি ওজন আরো বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময়—অর্থাৎ সারা রাত না খেয়ে সকালে যেকোনো খাবার খেলে অনেক সময় তা হজমে অসুবিধা করে। আবার শরীরের বিপাক কমে যায়, যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

পরামর্শ : দিনের তুলনায় রাতের খাবারের পরিমাণ কম খেলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু একটু তাড়াতাড়ি ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে খাবার শেষ করে ফেললে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ভুল ৪ : মোটা হয়ে যাব, তাই ডিমের কুসুম খাই না।

ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে ঘনীভূত পুষ্টি। প্রয়োজনীয় আয়রন, ফ্যাট, ভিটামিন ও নানা রকম মিনারেলস থাকে ডিমের কুসুমে। অনেক কিছুই সারা দিনে অনেকে খেয়ে থাকেন অথচ কুসুমের মতো পুষ্টিকর খাদ্যের অংশটুকু ফেলে দেন। বরং গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে দৈনিক ব্যায়াম করলে, পরিমিত ও সুষম খাবার গ্রহণ করলে তার সঙ্গে অবশ্যই দৈনিক একটি ডিম কুসুমসহ খেলে ভালো।

পরামর্শ : তেলে পেঁয়াজ বা মরিচ দিয়ে নয়, বরং সামান্য তেলে পোচ বা সিদ্ধ ডিম কুসুমসহ নাশতায় খেলে আপনার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে।

ভুল ৫ : দুধে ফ্যাট, তাই দুধে পানি মিশিয়ে পাতলা করে খাই।

এটাও একটা বড় ভুল। দুধের সঙ্গে অনেকেই পানি মিশিয়ে পাতলা করে খান। আধা কাপ দুধে আধা কাপ পানি। অথচ তাতে ফ্যাটের পরিমাণ কমে গেলেও সেই সঙ্গে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস সব কমে যায়। ১০০ মিলি দুধে ১০০ মিলি পানি মিশিয়ে ২০০ মিলি বা এক গ্লাস করে খেলে আপনি ১০০ মিলির পুষ্টিই পাবেন অথচ যাঁর দৈনিক চাহিদা ২০০ মিলি দুধ, তিনি ১০০ মিলি খেলে তাঁর দৈনিক চাহিদা পূরণ হবে না। ধীরে ধীরে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হবে।

পরামর্শ : দুধ একটু ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করে ঠাণ্ডা করুন। ওপরে যে মালাই জমবে, তা ফেলে দিন অথবা যাঁদের ডায়েট কন্ট্রোল করতে হচ্ছে তারা নন-ফ্যাট মিল্ক, যা এখন বাজারে পাওয়া যায়, গ্রহণ করুন।

ভুল ৬ : ডায়াবেটিস, তাই করলার রস খাই।

করলা ডায়াবেটিসের জন্য অনেক উপকারী। কিন্তু প্রাত্যাহিক ক্যালরি ঠিকমতো মেনে না চললে, দৈনিক না হাঁটলে, নিয়মিত ডাক্তার না দেখালে, ওষুধ বা ইনসুলিন না নিয়ে খাদ্যের তালিকা বা রুটিন মেনে না চললে শুধু করলার রস কারো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

পরামর্শ : রুটিন মেনে পরিমিত ও সুষম খাবার খান। দৈনিক হাঁটাহাটি করুন। তবে শুধু করলার রস নয়, করলার ভর্তা, করলার সালাদ বা হালকা তেলে করলা ভেজে খেলেও তা ডায়াবেটিসের জন্য ভালো।

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin