সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

Tasnim Hasnat Tasmi

Last Updated on July 31, 2018 by Motu Group Team

A journey from 88 kg to 79 kg 😇

আসেন আজকে আপনাদের আমার গল্প শুনাই। আমি বরাবরই নিজেকে ফুডি হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম । হ্যাঁ “করতাম” এখন কেন করি না সেই কথাই বলব আজ।

আমি সেই মানুষ যে তার এই ক্ষুদ্র জীবনে এখন পর্যন্ত কতশত ডিশ টেস্ট করেছি তার কোন হিসাব নেই। আমি যেনতেন খাদক না। আপনার চেনা পরিচিত এমন কোন খাবার নেই যা আমি টেস্ট করিনি। কখনো এমন হয়নি যে শহরে কোন নতুন রেস্টুরেন্ট হয়েছে আর আমি ওইখানে যাইনি। আর বাসায় আম্মু তোহ আছেই।

আমার ওয়েট বরাবরই বেশি। আমি নিজেও বুঝতাম ওয়েট কমানো উচিৎ কিন্তু কেমন জানি গা লাগাতাম না। কমাবো কমাবো করে জীবনের কত বছর চলে গেল কিন্তু এই ওয়েট আর কমল না। কমবে কি আমার নিজেরই তোহ ইচ্ছা কম ছিল। কিন্তু ওই যে কথায় বলে না, “ঠেলার নাম বাবাজী” !!! আমার জন্য ও এইরকম কিছু একটা ওয়েট করছিল।

সময়টা ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। কুরবানী ঈদের কয়েক দিন পরের ঘটনা। এলার্জি থাকার কারণে আমি গরুর মাংস কখনোই তেমন একটা খাই না। কিন্তু কোরবানীর সময় এক বা দুই টুকরা মুখে দি। ঘরে কোরবানী হইল আর যদি একটু না খাই !!!! তাও সেটা মাপের মধ্যেই ছিল। কিন্তু গতবার কি মনে করে জানি আমি এক টুকরা মাংসও খাইনি। ভাবলাম এইবার সিরিয়াস ভাবেই ওয়েট কমাবো সো ওইসব বাদ। সবচেয়ে অবাক করার মত বিষয় হল, ডায়েটে থাকার পর ও এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ওয়েট চার কেজি বেড়ে গেল। বাড়ল তোহ বাড়ল পুরা ফুলেই গেলাম আমি। কোন কাপড় হচ্ছে না। দুই দিন আগে বানানো কাপড় টাইট হয়ে যাচ্ছে। আমার কোন দিন এইরকম এক্সপেরিয়েন্স হয়নি তাই আমি নিজে ও জানতাম না কি করতে হয় অথবা আমার কি করা উচিৎ । তা আম্মু কি মনে করে বলল আচ্ছা চল একবার ডাক্তারের কাছে যাই গিয়ে দেখি আসলে ঝামেলা কোন জায়গায়। ডাক্তার টেস্ট দিল আর আমার ধরা পড়ল থাইরয়েড!!!!!

বাড়ি এসে নেট সার্চ করে থাইরয়েড নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। আমি এই জিনিস নিয়ে এতটাই রিসার্চ করছিলাম যে আমি আমার ভার্সিটির কোন কোর্সের পিছনে এত সময় দি নাই। মোটামুটি আইডিয়া হয়ে গেল কি খেতে পারব, কি পারব না এবং লাইফস্টাইল কেমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। মটু গ্রুপের থাইরয়েড ফাইল বের করলাম এবং এর সাথে নেট থেকে আইডিয়া নিয়ে নিজের মত করে চার্ট করলাম।

প্রথম দুই মাস ছিল আমার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। ওয়েট ছিল ৮৮ কেজি । আমার জন্য এতটা সোজা ছিল না সবজি খেয়ে থাকা। তাই করলাম। টিফিনে পর্যন্ত সবজি নিয়ে যেতাম। বাইরের সকল প্রকার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করলাম। ভাজাভুজি, ফার্স্ট ফুড, আইসক্রিম , সফট ড্রিঙ্কস সব বন্ধ। লাল চা খাইতাম চিনি চাড়া। ভাইরে ভাই সে কি দিন !!! আমার কাছে আর কোন ওয়েও ছিল না। আলমারি খুলে দাঁড়ায় থাকতাম আর কাঁদতাম । কোন ড্রেস পড়তে পারছি না। দুঃস্বপ্ন এর মত ছিল একেকটা দিন। ডাক্তার বলছিল দুই মাস পর দেখা করতে। বলছিল ওয়েট কমায়ে আসতে আর নিজের ফুড হ্যাবিট চেঞ্জ করতে নতুবা আমার ডোজ বেড়ে যাওয়ার চান্স ছিল। ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলাম থিসিস, ক্লাস টেস্ট, প্রেজেন্টেশন , ভাইবার প্রেসার ছিল তাই ঠিকমত হাঁটতে যেতে পারতাম না। কিন্তু ডায়েট করা ছাড়ি নাই একদিন ও।

কি দিন কি রাত। ডায়েটে নেই কোন মাফ !!! অতপর কঠোর সাধনা করে দুই মাসে আমি তিন কেজি কমাইলাম শুধু মাত্র নিজের ফুড হ্যাবিট চেঞ্জ করে । চলে আসলাম ৮৮-৮৫ তে <3 আমার থাইরয়েড ও কমে আসল। আমার খুশি দেখে কে। এবার নিজের উপর নিজেরই আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। আমি আগেই বলেছি আমার ফাইনাল ইয়ার চলছিল ভার্সিটির প্রেসারে ডেইলি ওয়ার্ক আউট করা হত না। ছুটির দিন গুলাতে হাঁটতে যেতাম । আর বাসায় ব্যায়াম করতাম। কিন্তু আমার ডায়েট ঠিক জায়গা মত ছিল। ওইটাতে কোন ফাঁকি আমি দি নাই। এর মধ্যে ফাইনাল এক্সাম দিলাম এক্সারসাইজের মাইরে বাপ হয়ে গেল। ঠিক রোজা শুরু হওয়ার পর পর ওয়েট মাপালাম ৫ কেজি ওজন গায়েব হয়ে গেছে আমি তখন ৮৫-৮০ <3 বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না আমি নিজেই দুই বার ওয়েট মেশিন চেক করছি যে ওইটা আদৌ ঠিক আছে কিনা!!! এই প্রথম বারের মত সারা রোজার মাস আমি ভাজাভুজি ছাড়া ছিলাম। সিদ্ধ ছোলা , ফলমূল, বাদাম , সবজি , রুটির উপর ছিলাম ( যদিও শেষে এসে আমি ভাত খাইসি একটু 😛 ) ইফতার করে দড়ি লাফাতাম , হালকা পাতলা ব্যায়াম করতাম এই তোহ । ভাবসিলাম এইটু বেশি ওয়েট কমবে কিন্তু না কমলো ১ কেজি !!!! সমস্যা নাই তাতেও আমি খুশি। কমসে তোহ অল্প হোক আর বেশি। আমার রেজাল্ট দাঁড়ালো ৮৮-৭৯ <3 প্রথম ছবিটা গতবছরের সেপ্টেম্বর মাসের আর দ্বিতীয় ছবিটা এই ঈদের । প্রথম ছবিটা যখন তোলা তখন আমার প্রথম থাইরয়েড ধরা পড়ে । আমার ওয়েট অনেক আস্তে কমে এবং তা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই । আমি টার্গেট ওয়েটে আসতে পারলেই হল। টার্গেট ৬৫ । আপাতত সত্তরে আসতে পারলে মেলা খুশি । 💃 বিঃ দ্র ঃ দয়া করে কেউ আমার ডায়েট চার্ট চাইবেন না । গ্রুপের থাইরয়েডের ফাইল এবং ইউটিউব দেখে নিজের মত করে চার্ট করে নিয়েছি। এখনো অনেক লম্বা পথ বাকি । এই গ্রুপে আছি কয়েক বছর হয়ে গেল ( আগের আইডি হ্যাক হয়ে গেছে 😥) কিন্তু এইটা আমার প্রথম বিফোর আফটার ছবি । মুটু গ্রুপের কাছে আমি অনেক ঋণী । গ্রুপটা মেলা কিছু দিছে এবং আসলেই দিছে। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য আমি যেন টার্গেট ওয়েটে ফিরে আসতে পারি । #Stayfit #happydieting

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin