সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

ডায়েটের বেসিক কথন

Last Updated on April 29, 2021 by Motu Group Team

ডায়েট করতে গেলে আমাদের কিছু বেসিক জিনিস জানতে হয়। আমরা অনেকে তা জানি আবার অনেকেই জানিনা, কিংবা জানলেও সঠিক টা জানিনা কিংবা ভুলে যায় মাঝে মাঝেই। আসুন সেই সব পরিচিত জিনিস গুলো নতুন করে জানি এবং অন্যকে জানাই।

Contents

ওজন কত দিন পর মাপতে হয়?

১৪ দিন পর পর ওজন মাপতে হয়। কারন, আশানুরুপ ওজন না কমলে বিগিনাররা একটু হতাশ হয়ে যায় । ডায়েট এডজাষ্ট হতেও অনেক সময় একটু সময় লাগে । অনেক সময় প্রথম প্রথম ওজন একটু বেড়েও যায় ।

  • প্রতিদিন ওজন মাপলে ডায়েট হ্যাম্পার হয়। যেমন ১ টা লাড্ডু খেয়ে ফেললাম, পরদিন সকালে ওজন মেপে দেখলাম বাড়েনি, ব্যস্, ভয় টা কেটে যায় ।উল্টা পাল্টা খাওয়া শুরু হয়ে যায় । ১৪ দিন পর কি হবে এই ভেবে অনেকে এই ১৪ দিন খুব সাবধান থাকে । অনেকের ডায়েট ফেল করার একটা অন্যতম কারণ প্রতিদিন ওজন মাপা ।
  • প্রতিদিন ওজন মাপা মানে সবসময় ওজন সম্পর্কে ব্রেন কে সচেতন করে রাখা এতে উল্টা ফল হয় অনেক ক্ষেত্রে । সবসময় ব্রেন স্টিমুলেটেড থাকলে ওজন অনেকসময় বেড়ে যায় ।

কখন ওজন মাপতে হয়?

সকালে খালি পেটে বাথরুম সারার পর। তাহলে একুরেট ওয়েট দেখাবে। একি মেশিনে, একই জায়গায় ওজন মাপতে হয়।

ডায়েট করা মানে কি কম খাওয়া?

আমাদের অনেকেরই ধারনা ডায়েট করা মানে হচ্ছে না খেয়ে থাকা বা কম খাওয়া। কিন্তু ডায়েট বলতে আসলে বুঝায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিমিত পরিমানে গ্রহন করা। এখন এই পরিমিত পরিমান টা কত তা নির্ধারণ করবে আপনার বি এম আর। বি এম আর থেকে কম ক্যালরি খেলে আর ওয়ার্ক আউট করে বার্ন করলে আপনার ওজন কমবে, বেশি খেলে ওজন বাড়বে আর ওজন মেন্টেন করতে চাইলে বি এম আর এর সমান পরিমান ক্যালরি ইনটেক করতে হবে।

ওজন কমাতে চাইলে কি ভাত/রুটি খাওয়া বাদ দিতে হবে?

অনেকে মনে করে ডায়েট করলে ভাত/রুটি বাদ দিতে হবে। এই ধারনাটিও সঠিক নয়। আমাদের শরীরের সঠিকভাবে সব কাজ সম্পন্ন করতে সব খাদ্য উপাদানেরই নির্দিষ্ট পরিমানে চাহিদা রয়েছে। তাই ব্যালেন্স ডায়েট করতে হয় যেখানে নির্দিষ্ট পরিমান খাদ্য উপাদান থাকে। নয়ত পুরা শরীর ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা।

কোন আশ্চর্য পানি খেলে ওজন কমে?

অনেকে বলে জিরা পানি, লেবু পানি, দারচিনি পানি, ডিটক্স ওয়াটার বা টক দই, কালোজিরা, এসিভি ইত্যাদি আশ্চর্যজনক ভাবে ওজন কমায়, এ ধরনের ধারনা সঠিক নয়। এগুলো মেটাবলিজম বুস্ট করে মাত্র। কোন খাবারই ক্যালরি বার্ন করেনা,আর ক্যালরি বার্ন ছাড়া ওজন কমাও সম্ভব না।

ভাতের বদলে মুড়ি খাওয়া কি ভাল?

মুড়ি চাল ভেজে বানানো হয়। মুড়ি কার্ব। মুড়ির গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স চালের থেকে বেশি, লাল চালের ভাতের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৫৫ এবং সাদা চালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স ৬৫ আর মুড়ির ৭৮। যে খাবারের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স যত বেশি তা তত দ্রুত হজম হবে এবং দ্রুতই ক্ষুধা পাবে, তাই লং টাইম মিল প্ল্যানে অবশ্যই মুড়ি রাখা উচিত না। এছাড়া মুড়ি ভাজতে ইউরিয়া সহ অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান ব্যাবহার করা হয়,তাই স্বাস্থ্য ঝুকি থাকে।

ক্যালরি একই থাকলে কি যে কোন কিছু খাওয়া যাবে?

একই পরিমাণ ক্যালরি থাকলে যেকোনো কিছু খাওয়া যাবে এমন ভাবাটা ভুল। মনে রাখবেন ক্যালরি ওজন মেইন্টেইন করার একটা নাম্বার। ম্যাক্রো রেশিও অর্থাৎ খাবারের কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট এর উপস্থিতি যে কোন খাবারকে স্বাস্থ্যকর অথবা অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। তাই সেম ক্যালরির যে কোন ডায়েট বিরোধী খাবার খাওয়া যাবে না।

মাল্টিভিটামিন খেলে কি মোটা হয়ে যাব?

মাল্টিভিটামিন হল এক ধরনের সাপ্লিমেন্ট, এটি ডায়েটে থাকা অবস্থায় আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ঘাটতি পূরন করে। এতে সিগনিফিকেন্ট কোন ক্যালরি থাকে না, তাই মোটা হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এটি ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ মতে খাওয়া ভাল।

খাওয়ার পর পানি খেলে কি পেট বড় হয়ে যায়?

খাওয়ার পরপর পানি পান করলে সাধারনত পেটে একটু ফোলা ভাব থাকে,একারনে অনেকে মনে করেন খাওয়ার পর পানি খেলে পেট বড় হয়ে যাবে। এটি একটি ভুল ধারনা। আমাদের ইন্টেস্টাইনের ইলাস্টিসিটি অনেক বেশি,আপনি যতটা খাবেন ততটাই সে ধারন করে ফুলে উঠবে আবার হজম হয়ে গেলে নেমে যাবে।আমাদের খাবার ডাইজেস্ট করাতে পানির ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ,তবে খাওয়ার পরপর বেশি পানি পান করলে অনেকের ডাইজেশনে সমস্যা হয়, তাই খাওয়ার ৩০ মিনিট পর পানি পান করা উচিৎ।

ঠান্ডা পানি খেলে কি ওজন বাড়ে বা গরম পানি খেলে কি ওজন কমে?

গরম পানি বা ঠান্ডা পানি কোন কিছু ওজন বাড়াতে বা কমাতে হেল্প করেনা। পানি খাবার ডাইজেস্ট করতে হেল্প করে। ওজন বাড়া কমার সাথে ক্যালরি বার্নের সম্পর্ক, অন্য কিছুর নয়।

ডায়েট বা জিম ছেড়ে দিলে কি মোটা হয়ে যায়?

ডায়েট বা জিম করে ওজন কমিয়ে আপনি যদি আবার অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন তাহলেই আবার মোটা হবেন। নির্দিষ্ট টার্গেটে পৌছার পর সেটা ধরে রাখতে হবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপন এর মাধ্যমে।

দুপুরে ঘুমালে বা খাওয়ার পরপর ঘুমালে কি ওজন বাড়ে?

একজন সুস্থ পুর্নবয়স্ক মানুষের ২৪ ঘন্টায় ৭/৮ ঘন্টা ঘুম জরুরী। রাতে ঘুম পুরা না হলে সেটা দুপুরে বা অন্য কোন সময় পূরণ করতে পারেন। দুপুরে ঘুমের সাথে বা খাওয়ার পরপর ঘুমের সাথে ওজন বাড়ার সম্পর্ক নেই। নির্দিষ্ট প্রয়োজনের বেশি খেলেই কেবল ওজন বাড়বে।

স্কিপিং করলে কি মেয়েদের সমস্যা হয়?

অনেকে মনে করেন স্কিপিং করলে মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে যায়, কিংবা বডি শেপ নষ্ট হয়ে যায়। এটা সত্য নয়। স্কিপিং একটা ভাল কার্ডিও, এতে একজন সুস্থ মেয়ের কোন শারীরিক সমস্যা হয়না। শুধু খেয়াল রাখতে হবে স্কিপিং করার সময় ভাল মানের জুতা পরে মসৃন জায়গায় স্কিপিং করতে হবে এবং পায়ের পাতা ফেলে লাফাতে হবে, গোড়ালী নয়, তাহলে পায়ের সমস্যা হবে না আর স্কিপিং করার সময় স্পোর্টস ইনার ব্যবহার করতে হবে তাহলে বডি শেপ নষ্ট হবে না।

তবে যদি কারো আগে থেকেই জরায়ুতে কোন সমস্যা, কোন অপারেশন বা অন্য কোন শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে তবে স্কিপিং করার আগে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে।

এক্সারসাইজ না করলে কি ওজন কমে না?

ওজন কমাতে ডায়েট ৮০% এবং এক্সারসাইজ ২০% ভূমিকা রাখে। সঠিক ডায়েট করলে আপনার ওজন কমবে ঠিকই, কিন্তু মাসল লস হবে, স্কিন লুজ হয়ে যাবে। কিন্তু ডায়েটের পাশাপাশি এক্সারসাইজ করলে সেটা বেশি ইফেক্টিভ হবে এবং মাসল বিল্ডিং এর মাধ্যমে বডি টোন্ড হবে আর বডি শেপ ও সুন্দর হবে।

এক্সারসাইজ করার সময় ঘাম না হলে কি ক্যালরি বার্ন হয়না?

ঘাম হওয়া শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মাত্র। ঘাম হওয়া না হওয়ার সাথে ক্যালরি বার্নের সম্পর্ক নেই। যদি তাই হত তাহলে শীতের সময় বা শীতের দেশের সবাই মুটিয়ে যেত আবার গরমে স্লিম ফিট থাকত। অথবা রোদে বা চুলার পাশে দাঁড়িয়েই ওজন কমিয়ে ফেলতো।

সকালেই এক্সারসাইজ করতে হবে, নাহলে কি ওজন কমবেনা?

এক্সারসাইজের নির্দিষ্ট কোন সময় নাই, এক্সারসাইজ করলে সব সময়ই ক্যালরি বার্ন হবে। পার্থক্য শুধু সকালে এক্সারসাইজ করলে বডি তার স্টোরেজ ফ্যাট থেকে এনার্জি নেয় আর অন্য সময় করলে সেদিন খাওয়া খাবার থেকে আগে এনার্জি নেয়। তাই সকালে উঠতে পারেন না এই এক্সকিউজ দেখিয়ে এক্সারসাইজ না করে বসে থাকবেন না, যখনি সময় পাবেন তখন ই এক্সারসাইজ করে নিবেন।

পিরিয়ডে এক্সারসাইজ করা বা বেশি নড়াচড়া করা কি উচিত?

পিরিয়ডে এক্সারসাইজ করবেন কি করবেন না সেটা সম্পূর্ণ আপনার শারীরিক কন্ডিশন এর উপর নির্ভর করবে। অতিরিক্ত যন্ত্রণা, অতিরিক্ত ব্লিডিং, শরীর ব্যথা, ফোলা ভাব ইত্যাদি থাকলে ৩/৪ দিন এক্সারসাইজ অফ রাখতে পারেন। আর আপনি যদি মনে করেন আপনার কোন সমস্যা হচ্ছেনা, তাহলে আপনি হাল্কা ধরনের এক্সারসাইজ করতে পারেন যেমন হাঁটাহাঁটি, আপার বডি এক্সারসাইজ, ইয়োগা ইত্যাদি। যাদের অল্প পেট ব্যাথা হয় বা ফ্লো ক্লিয়ার হয় না তারা হাটাহাটি বা পেটে চাপ পড়েনা এমন এক্সারসাইজ গুলো করলে উপকার পেতে পারেন।

মেয়েরা ডাম্বেল দিয়ে এক্সারসাইজ করলে কি ছেলেদের মত মাসল হয়?

এটা অনেকেরই ভুল ধারনা যে মেয়েরা ডাম্বেল দিয়ে এক্সারসাইজ করলে ছেলেদের মতো মাসল হয়। ছেলেদের মত মাসল হতে টেস্টোস্টেরন হরমনের দরকার,যা মেয়েদের শরীরে খুবই সামান্য পরিমানে উৎপন্ন হয় এবং মাসল গ্রোথে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেনা। তাই আপনি যদি সাপ্লিমেন্ট না নেন তাহলে যতই ওয়েট লিফট করেন ছেলেদের মত মাসল হবেনা কিন্তু ওয়েট লিফটের সাথে যদি সঠিক পরিমান প্রোটিন গ্রহন করেন তাহলে নাইস শেপ & টোন বডি পাবেন।

গ্রীণ টিতে কি লেবু/মধু মেশানো যাবে?

গ্রীন টি এমনি খাওয়ায় ভাল। কখনওই গ্রীন টিতে মধু মেশানো যাবে না, মাঝে মাঝে স্বাদ বদলের জন্য লেবু, পুদিনা পাতা, আদা বা দারুচিনি মেশানো যেতে পারে।

এক মাসে কি ১০ কেজি ওজন কমানো যায়?

এই প্রশ্ন করার আগে এটা ভাবুন, আপনি কি এক মাসে ১০ কেজি ওজন বাড়িয়েছেন? নিশ্চয় না। তাই এক মাসে ১০ কেজি ওজন কমানো সম্ভব নয়।

এসিডিটিতে কি লেবু/পানি খাওয়া যায়?

না, এসিডিটি থাকলে লেবু পানি খাওয়া যায় না।

ডায়েট করছি কিন্তু বাথরুম ক্লিয়ার না, কি করবো?

শাক সবজি এবং ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খাবেন। পানি ৩ লিটার মিনিমাম। তাতেও কাজ না হলে রাতে শোবার আগে ২ চা চামচ ইসুবগুল বা তোকমা ভিজানো পানি খেতে পারেন।

জাংক ফুড খেয়ে ফেলেছি এখন কি করবো?

খেয়েই যখন ফেলেছেন, তখন আর কি করবেন, যতটা পারেন এক্সারসাইজ করে বার্ন করেন আর ভবিষ্যতে যেন আর এমন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। ডায়েটের শুরুতে চিট করা উচিৎ না। নতুন খাদ্যাভ্যাস এ শরীর কে অভ্যস্ত হতে দিতে হয়।

আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম কি?

সকালে আর রাতে খাবার ৩০ মিনিট আগ্র এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্ট্র দিয়ে খাবেন। খাওয়ার ৩০ মিনিট পর কুলকুচি করে নিবেন।

দিনে কয় কাপ গ্রীণ টি খাওয়া যাবে?

ম্যাক্সিমাম ২/৩ কাপ। তবে হিমোগ্লবিন কম থাকলে বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

গ্রীণ টি কি ঠান্ডা খাওয়া যায়?

হ্যা, যায়।

দিনে কয় কাপ ব্ল্যাক কফি খাওয়া যায়?

ম্যাক্সিমাম ২/৩ কাপ। তবে ক্যাফেইন ইনটলারেন্স থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

ব্ল্যাক কফি কি ঠান্ডা খাওয়া যায়?

না, যায় না। ঠান্ডা কফি খেলে কাজ হবে না।

ব্ল্যাক কফিতে কি কিছু মেশানো যাবে?

ব্ল্যাক কফিতে কিছু মেশানো যায় না, তবে স্বাদ বদলের জন্য যদি লো ফ্যাট মিল্ক মেশান, তবে ক্যাফেইন এর গুনাগুন নষ্ট হয়ে যাবে।

বেলী ফ্যাট কমাবো কিভাবে?

টোটাল বডি ফ্যাট পারসেন্টেজ না কমলে কিংবা ওজন নরমাল বি এম আই এ না আসলে বেলী ফ্যাট কমানো সম্ভব না। প্রপার ডায়েট, কার্ডিও আর এবস এক্সারসাইজ ছাড়া বেলী ফ্যাট কমানো সম্ভব না।

বি_ফিট_বি_স্লিম_বি_হ্যাপি

Leave a comment

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin