সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

দড়ি লাফ বা স্কিপিং | দড়ি লাফে কি জরায়ু নিচে নেমে যায়?

Last Updated on April 29, 2021 by Motu Group Team

দড়ি লাফ এমন একটা ব্যায়াম যা অনায়াসে যেকোনো স্থানেই করা যায়। এমনকি দড়ি লাফের দড়িটা পেঁচিয়ে ব্যাগের ভেতরে রেখে দিতে পারেন সুবিধামতো সময়ে ব্যবহার করার জন্য। এই ব্যায়ামে প্রতি মিনিটে যে পরিমাণ ক্যালরি পোড়ে তা অন্য খুব কম ব্যায়ামেই হয়। আর এর আরেকটা দারুণ দিক হলো আপনি শিশুদের সঙ্গে নিয়েও এই ব্যায়াম করতে পারেন। দড়ি লাফকে একটি ভালো কার্ডিও ও হাই ইনটেনসিভ ইন্টারভেল ট্রেইনিং বলা হয়।

বেশিরভাগ সময় বাইরে দৌড়াতে যেতে হবে চিন্তা করে আলসেমি ঘিরে ধরে। তবে হাতের কাছে দড়ি থাকলে আর ঘরের বাইরে যেতে হবে না । ঘরেই করতে পারবেন। তাই খারাপ আবহাওয়া আপনার ফিটনেস রুটিনে আর বাধা নয়।
দেহের চর্বি ঝরাতে এর জুড়ি নেই। দৌড়ানোর চেয়ে স্কিপিং বেশি ক্যালোরি বার্ন করতে সক্ষম। এক ঘন্টা স্কিপিং-এ ৯০০-১০০০ ক্যালোরি খরচ হয়।
দড়ি লাফ ব্যায়ামের সবচেয়ে সস্তা উপায়। একটি রোপ হলেই হল।

Contents

উপকারীতা

স্কিপিংয়ের সময় মস্তিষ্কের দুটি অংশই সমানভাবে সক্রিয় থাকে, ফলে মনোযোগ বাড়ে।


স্কিপিংয়ের ফলে হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যা হয় না।

দড়ি লাফের সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বিষাক্ত উপাদানগুলোর অনেকটাই বেরিয়ে যায়। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা মসৃণতা বৃদ্ধি পায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

মাত্র ৩০ মিনিট দড়ি লাফিয়ে আপনি ৪৫০ ক্যালোরি পোড়াতে পারেন। শুনলে অবাক হবেন যে, ১০ মিনিট দড়ি লাফাতে আপনার যে শারীরিক পরিশ্রম হয়, তা মাত্র ৮ মিনিটে ১ মাইল দৌড়ানোর সমান। পুরো শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা পেট যেটাই কমাতে চান, সেটা নিয়মিত স্কিপিংয়ের মাধ্যমে সম্ভব। তাই আজই একটি স্কিপিং রোপ বা লাফানোর দড়ি বানিয়ে নিন বা কিনে নিন। তবে প্রথমদিকে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে যতোটা স্কিপিং করা সম্ভব, ততোটা স্কিপিং করুন। দম অনুযায়ী আস্তে আস্তে সময়টা বাড়ান।

হার্ট ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে নিয়মিত দড়ি লাফের অভ্যাস। দম বাড়াতে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া ও ছাড়ার ক্ষেত্রে দড়ি লাফ বেশ কার্যকরী। হার্টও সারা শরীরে বেশি রক্ত সরবরাহ করবে, যা আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশের টিস্যুগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি-উপাদান পৌঁছে দেবে।

নিয়মিত স্কিপিংয়ের ফলে আপনার শরীরের ওপরের ও নিচের অংশ অর্থাৎ কোমর থেকে পায়ের পাতার মাংসপেশীর গঠন সুন্দর ও দৃঢ় হয়। ওপরের অংশও বলিষ্ঠ হয় যেহেতু আপনি দড়ি লাফানোর জন্য আপনার হাত ও কাঁধ ব্যবহার করছেন।

দড়ি লাফের অভ্যাসে আপনার শরীর আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় হবে এবং আপনার শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় রাখতে সাহায্য করবে। স্কিপিংয়ের সময় যেহেতু আপনার মস্তিষ্কের দুটি অংশই সমানভাবে সক্রিয় থাকে, সেজন্য যে কোন কাজে আপনার মনোযোগও বাড়তে থাকে।

স্কিপিংয়ের ফলে আপনার শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড়ের ক্ষয় রোধ করে এবং অস্টিওপোরোসিস জাতীয় মারাত্মক সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

দড়ি লাফের সময় আপনার ক্যালোরি খরচ হয় এবং অল্প সময়ে পর্যাপ্ত পরিশ্রম হয়। শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে বিষাক্ত উপাদানগুলোর অনেকটাই বেরিয়ে যায়। এতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা ও সজীবতা বৃদ্ধি পায়।

যে কোন ব্যায়ামই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্কিপিংটা হতে পারে যে কোন খেলার বেশ সহজ বিকল্প। বেশি সময়েরও প্রয়োজন নেই এতে। কিন্তু, নিয়মিত দড়ি লাফের চর্চাতে আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যাবে এবং মনও থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত, চাঙ্গা, প্রাণবন্ত ও ফুরফুরে। মানসিকতা নেতিবাচক থাকলে, তা হয়ে উঠবে ইতিবাচক। তাই আজ থেকেই স্কিপিংটা আপনার নিত্যদিনের চর্চার তালিকায় যোগ করে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

যে কোন ব্যায়ামই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। স্কিপিংটা হতে পারে যে কোন খেলার বেশ সহজ বিকল্প। বেশি সময়েরও প্রয়োজন নেই এতে। কিন্তু, নিয়মিত দড়ি লাফের চর্চাতে আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যাবে এবং মনও থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত, চাঙ্গা, প্রাণবন্ত ও ফুরফুরে। মানসিকতা নেতিবাচক থাকলে, তা হয়ে উঠবে ইতিবাচক। তাই আজ থেকেই স্কিপিংটা আপনার নিত্যদিনের চর্চার তালিকায় যোগ করে নিন এবং সুস্থ থাকুন।

প্রতিদিন অন্তঃত ১০০০ বার দড়িলাফ এর অভ্যাস করতে পারলে আপনাকে আর ঠেকায় কে?

দড়ি লাফে কি জরায়ু আসলেই নিচে নেমে যায়?

জরায়ু সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিচের দিকে নেমে যাওয়াকে Prolapse বলে । এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে । তবে দড়ি লাফের কারণে কখনোই Prolapse হয় না । তবে কারো আগে থেকেই Prolapse হয়ে থাকলে, সেটা আরো বেড়ে যায় । মাসিক, গর্ভাবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে (হৃদরোগ, হাঁপানি, অস্থি ক্ষয়) দড়ি লাফানো উচিত নয় । (ইন্টারনেট)

সতর্কতা

দড়ি লাফের সময় কোন ব্যাপারগুলো খেয়াল রাখা উচিত?

  • পিড়িয়ড বা প্রগনেন্ট অবস্থায় করবেন না।
  • মেঝেতে, যেখানে স্কিপিং করা হবে, সেখানে যেন নরম কার্পেট বা ফোম থাকে । এতে করে গোড়ালির আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।
  • দরকার হলে কাপড়ের বা নরম জুতোও পড়ে নেওয়া উচিত ।
  • অধিক উচ্চতায় লাফ দেওয়া ঠিক না, এতে করে জয়েন্টের অসুবিধে হতে পারে ।
  • প্রতিবার লাফের সময় হাঁটু কিছুটা বাঁকিয়ে রাখা উচিত । এটা Shock Absorber হিসেবে কাজ করব এবং হাঁটুর উপর চাপ পড়বে না ।
  • কনুই শরীরের কাছাকাছি রেখে, ঘাড় নরম করে, মাথা উঁচু ও পিঠ সোজা রাখা উচিত ।
  • বিরতি দিয়ে ব্যায়াম করা উচিত ।
  • পায়ের নিচ দিয়ে দড়ি আনার সময় যেন পায়ে পেঁচিয়ে না যায়।

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin