সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

ব্যায়াম ডায়েট সব করেন তবুও ওজন কমছেনা

Last Updated on July 29, 2017 by Motu Group Team

কার্যকরী ডায়েট চার্ট এবং প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করেও ওজন কমাতে পারেন না একেবারেই। ফলে ডায়েট চার্টটি ফেলে দেয়া এবং ব্যায়াম করা বাদ দিয়ে বসে থাকেন। কিন্তু আপনি জানেন কি, আপনার এতো কষ্টের ডায়েট প্ল্যান এবং ব্যায়ামের রুটিন কেন বিফলে যাচ্ছে? এর কারণ আপনি নিজেই। প্রথমে এই কাজগুলো বাদ দেয়ার চেষ্টা করুন এবং শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করান। এরপর শুরু করুন ডায়েট এবং ব্যায়াম, দ্রুতই ফলাফল পেয়ে যাবেন।

১) অতিরিক্ত ব্যায়ামের পর অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াঃ
অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন। কিন্তু ব্যায়ামের পর আপনার শারীরিক চাহিদার কারণে নিজের অজান্তেই আপনি অনেক বেশী খেয়ে ফেলছেন। এতে আপনার ওজন কিন্তু একেবারেই কমছে না, শুধু সময় এবং পরিশ্রম নষ্ট।
২) কম ঘুমানোঃ
ওজন না কমার আরেকটি কারণ ধরতে পারেন আপনার কম ঘুম। আপনি যদি ৭-৮ ঘণ্টা না ঘুমান প্রতিদিন, তাহলে আপনার দেহে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে এবং ক্ষুধার উদ্রেক করে। যার ফলে আপনার খাবার খাওয়া হয় বেশী এবং ওজন কমে না একেবারেই।
৩) থাইরয়েড সমস্যাঃ
ডায়েট এবং ব্যায়ামের পর যদি ওজন একেবারেই না কমে তাহলে থাইরয়েডের চেকআপ করিয়ে নিন। কারন থাইরয়েড সমস্যার কারণে ওজন কমে না বরং দিনকে দিন বাড়তেই থাকে।
৪) একেবারেই ফ্যাট খাওয়া বন্ধ করাঃ
মোটা হওয়ার ভয়ে সব ধরণের ফ্যাট বাদ দিয়েছেন? তাহলে জেনে রাখুন আপনার ওজন না কমার আরেকটি কারণ এই কাজটি। কিছু ফ্যাট যেমন মাছের তেল, অলিভ অয়েল, বাদাম ইত্যাদি ওজন কমাতে সহায়তা করে। এগুলো বাদ দেবেন না।
৫) চিনি খাওয়াঃ
আপনি না হয় অনেক কঠোর ডায়েট মেনে চলছেন, কিন্তু চা/কফি বা জুসের সাথে খাচ্ছেন চিনি, এতে কি আদৌ কোনো কাজ হবে? মোটেই ন। আপনার ওজন না কমার পেছনের কারণ কিন্তু এটিই।
৬) খাবার খেয়ে ঘুমুতে যাওয়াঃ
আপনি যতো ডায়েট মেনেই খান না কেন এবং যতো অল্পই খান না কেন যদি খেয়েই ঘুমুতে চলে যান তাহলে কিন্তু ওজন কমবে না। খাওয়ার অন্তত ৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাওয়া উচিত। অর্থাৎ বেশী রাত করে খাবার না খাওয়াই ভালো।
৭) ভিটামিন ডি এর অভাবঃ
শত চেষ্টাতেও ওজন কমছে না? তাহলে দেখুন তো আপনার দেহে ভিটামিন ডি এর অভাব রয়েছে কিনা। কাওরন ভিটামিন ডি এর অভাবে মোটা হওয়ার প্রবনতা বাড়ে। তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খান ও সকালে উঠে সূর্যের কোমল আলোতে হাঁটাহাঁটি করুন।
৮) অতিরিক্ত মানসিক চাপঃ
মানসিক চাপ আপনার মনকেই শুধু অসুস্থ করে তোলে না। এটির প্রভাব দেখা যায় আপনার দেহেও। মানসিক চাপের কারণে অর্থাৎ দেহে উৎপাদিত স্ট্রেস হরমোনের কারণে ক্ষুধার উদ্রেক বাড়ে। এ কারণেই আপনার ওজন কমানো সম্ভব হয় না।
৯) স্বাস্থ্যকর খাবারের ফাঁদঃ
আমরা অনেকেই বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চাই। আর খাবারের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বিক্রির জন্য পণ্যের গায়ের ‘অমুক খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প’-এ ধরনের লেভেল লাগিয়ে বিষয়টিকে আকৃষ্ট করে তোলে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খাবারগুলো তেমন স্বাস্থ্যকর হয় না। এসব খাবার কৃত্রিম চিনি এবং ক্যালোরি বেশি থাকে। যেমন : ফলের জুস, গ্র্যানোলা সেরিয়াল। তাই এ ধরনের খাবার খাওয়ার যদি ঝোঁক থাকে তবে তা বাদ দিন। কেননা এগুলো ওজন কমাতে তেমন কাজে আসে না।
১০) দ্রুত ফলাফলের আশাঃ
দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অনেকেই ক্র্যাশ ডায়েট বা কুইক ফিক্স ডায়েট করেন। অনেকেই আবার এগুলো করে ব্যর্থ হয়ে বিষণ্ণতায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ওজন একদিনেই কমে না। এ জন্য ধৈর্য ধরতে হয়। সময় ও সাধনা থাকতে হয়। মনে রাখুন, এটি মেরাথনের মতো ধীর এবং দীর্ঘ দৌড়, দ্রুত দৌড় নয়।
১১) বিষণ্ণ থাকা ঃ
ওজন কমাতে পারছেন না বলে বিষণ্ণ? দয়া করে বিষণ্ণ হবেন না। কারণ বিষণ্ণতা ওজন বাড়ায়।প্রথমত, বিষণ্ণতা মস্তিস্কের এক ধরনের কেমিক্যাল নিঃসরণ করে যা ক্ষুধার উদ্রেক করে। এজন্য বিষণ্ণ মানুষকে খেতে বেশি দেখা যায়।
দ্বিতীয়ত, বিষণ্ণতা রোগের জন্য যে ঔষধ দেয়া হয় সেগুলোও ক্ষুধার উদ্রেক করে। ফলশ্রুতিতে বেশি খাওয়া হয় এবং মুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। হাসি খুশী থাকুন। আর নিতান্তই যদি বিষন্নতার কারণে খেতে হয় তাহলে স্বাস্থ্যকর কিছু খান। চকোলেট কিংবা অন্যান্য তৈলাক্ত স্নাকস বাদ দিয়ে ফল কিংবা বাদাম খান ওজন কমবে।
১২) না খেয়ে থাকাঃ
অনেকেই ওজন কমানোর জন্য একবেলা খাবার না খেয়ে থাকেন। বিশেষ করে না খেয়ে থাকার জন্য তারা সকাল বেলাটাই বেছে নিয়ে থাকেন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ভুল একটি পদক্ষেপ। এতে করে আপনার ওজন বাড়বে, কমবে না। একটানা অনেকটা সময় না খেয়ে থাকলে শরীর মনে করে খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে, তখন সে মেটাবোলিজম হার কমিয়ে দেয়।
১৩) হরমোনঃ
একমাসের কসরতে কমেনি ওজন। ওয়েট-মিটারে ফুটে ওঠেনি খুশির খবর। এর পিছনে কারণ হতে পারে হরমোন। এর মানে এটা নয়, আপনার শরীরে মেদ ঝরছে না। এক্সারসাইজ় যখন করছেন, কিছুটা হলেও ওজন কমছে। কিন্তু হরমোনের হেরফেরের কারণে তৈরি হতে পারে নতুন পেশি। যে কারণে দিনদিন রোগা হওয়ার পরিবর্তে আপনার ওজন বাড়ছে।
১৪) নিজেকে একেবারেই ছাড় দেন নাঃ
আপনি নিজেকে একেবারেই ছাড় দেন না। সবসময় স্বাস্থ্যকর খাবারই খেতে হবে, এই চিন্তা করে আপনার মনটা খারাপ হয়ে যায়। এর চাইতে সপ্তাহে এমন একটা সময় রাখুন যে সময়ে আপনি একটু চকলেট, একটু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে পারবেন। তাহলে ওজন কমানোর কাজটা অনেক সহনীয় মনে হবে।নেটদুনিয়া

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin