সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

পিসিও বেশিরভাগ মেয়েদের একটি কমন সমস্যা। পিসিও কন্ট্রোল থাকলে আপনি ওকে,, আর কন্ট্রোল না থাকলে সারাজীবন ভোগান্তি।

Last Updated on July 16, 2017 by Motu Group Team

এবার আসি আমার গল্পে।
আমার বয়স ৩০,, উচ্চতা ৫.৫”।
বর্তমান ওজন ৬৫ কেজি।
আমার ওজন হওয়া উচিত ৫৬.৫ কেজি থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কেজি।
গত ৩ বছর আমার ওজন ৬০/৬৭ এর কাটায় উঠা নামা করেছে।
নিজেকে নিয়ে বেশ ভালোই ছিলাম।
এই প্রচন্ড ভালো থাকার মধ্যে বিপদ আমাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছিল।। আমি তো গত ১ বছর ভুলেই গেছিলাম, আমি পিসিও পেশেন্ট।
আজীবন আমাকে একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করতে হবে।
ফলাফল,,, গত ৬ মাস আগের ছবি গুলা দেখে নিজেকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল!!!
আমার ওজন বেড়েই যাচ্ছিল,,, সেই পিরিয়ড ও অনিয়ম। মাথার চুল পড়ে অর্ধেক হয়ে গেছিলো।

এই পর্যন্তই ক্ষান্ত ছিলো না!! বোনাস হিসেবে আমি হাটুতে ব্যাথা পেয়ে ৬ টা সেলাই নিয়ে,,, ৩ মাসের জন্য শয্যা নিলাম!!!
#তিন মাস পরে,,,, আমি নিজেকে চিনতে পারছিলা না!!!!
আয়না দেখতে ভালো লাগতো না। সব জামা কাপড় টাইট হয়ে গেছিলো। ওদিকে স্বাস্থ্যগত অবস্থাও ভালো ছিলো না। আমি দৌড়ালাম, গাইনী বিশেষজ্ঞর কাছে!! পরামর্শ নিলাম, নিজের দুই গাইনী ডাঃ বান্ধুবী,, ডাঃ নাজিয়া হক অনি আর ডাঃ রেহানা পলি।
সবার বক্তব্য একটাই,,,, পিসিও আমাকে গ্রাস করে এখন পিসিওডি হয়ে গেছে।
বাচতে হলে আমাকে ওজন কমাতেই হবে। আমার হরমোন, আয়্রন,, হিমোগ্লোবিন, এমন কি এইচ বি এ ওয়ান সি,,,, (র‍্যান্ডম ব্লাড সুগার,),, কোন টাই তার সঠিক লেভেলে ছিলো না।
ততদিনে,,, আমার ওজন ৭৬.৫ কেজি। এটা মাত্র ২ মাস আগের ঘটনা।
মিশন ওয়েটলস—-
১) প্রথম ১৫ দিন আমি ভোরে ৪৫/৫০ মিনিট করে হাট তাম।
সাথে ১৪০০ ক্যালরি ডায়েট চার্ট।
হাটা আসলে আমি শরীর টাকে ওয়ার্ম আপ করে নিচ্ছিলাম হার্ড এক্সারসাইজ এর জন্য।
২) পরের ১৫ দিন,, হাটা+৩০ মিনট এরোবিক্স করলাম।
প্রথম মাসে আমার ওজন কমেছিল,,,, ১ কেজি।
হতাশ হইনি,,, আমার মেটাবলিজম,, আস্তে আস্তে রানিং হচ্ছিল,, নিজেকে মোটিভেট করেছি গান শুনে নেচে গেয়ে।
পরের মাস—-
১) ১৫ কার্ডিও +৩০ মিনিট এরোবিক্স করা শুরু করলাম।
কারন আমার বডি হেটে হেটে প্রেশার নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ততদিনে।
আমি দেখলাম,,,, এক্সারসাইজ করলে বেশি চিয়ার আপ লাগে,, হাটায় না
এইবার খেল শুরু হল,, আমার ওজন কমতে শুরু করলো আলহামদুলিল্লাহ।
১ মাসে ৭ কেজি কমে গেলো।
সাথে ডায়েট তো ছিলই।
সব মিলিয়ে ওজন কমেছে ১১ কেজি। অবশ্য আমার মেশিন ৩ কেজি বেশি রিডিং দেয় ^_^
সেই হিসেবে ৮ কেজি।

পিসিও পেশেন্ট দের জন্য টিপস:
১) তিসি খাবেন,,,, ওজন কম্বে+ আপ্পনার ওভারি সুস্থ রাখবে।
২) রোজ একটি আমলকী খাবার অভ্যাস করুন,এটা ও জরায়ু + ওভারি ভাল রাখে। টিউমার কে ছোট করে।
৩) সাজনা পাতা মাসে ১ দিন খান অন্তত। এটি পিসওর মহৌষধ ♥♥
৪) রোজ ২ কোয়া কাচা রসুন খান।
৫)রাতের ব্যায়াম খুব ফলদায়ক।

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin