সপ্তাহে কমপক্ষে ৩-৫ দিন ১ ঘন্টা হাটুন/দৌড়ান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।

Baishali Rahman

Last Updated on July 15, 2017 by Motu Group Team

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

একসময় এই গ্রুপেই লিখেছিলাম বদলে যাওয়ার গল্প। যেখানে বলেছিলাম, কিভাবে আমি ৯০ কেজি ওজন থেকে ৬৩ কেজি ওজনে পৌঁছেছিলাম। আজ লিখবো এই গল্পের দ্বিতীয় অংশ। যেখানে বলবো, নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা এবং সেইসাথে আমি কিভাবে এই ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করলাম তার গল্প।

আমার ওজন যখন ৬৩ কেজি, ঠিক তখনই আমি আমেরিকার ভিসা পাই। সময়টা ২০১৬ এর জুলাই। টিকেট কনফার্ম করি আগস্টের ১১ তারিখ। এরপর শুরু হয়ে যায় দাওয়াত খাওয়ানোর পালা। যেহেতু বাইরে চলে আসবো, প্রায় দিনই কেউ না কেউ দাওয়াত করে। সেখানে গিয়ে না খেয়েও থাকা যায় না, কারণ দাওয়াতটা যেহেতু আমার উপলক্ষেই এইজন্য সবাই তাকিয়ে থাকে আমি খাচ্ছি কিনা। তার মধ্যে আবার বাইরে যাওয়ার জন্য কাগজপত্র তৈরি, ছুটির ব্যবস্থা, আত্মীয়স্বজনের সাথে দেখা সাক্ষাত ইত্যাদির ঝামেলায় নিয়মিত এক্সারসাইজ করারও সময় পাই না। এইভাবে যখন ইউএস এলাম তখন ওজন দাঁড়ালো ৬৬ কেজিতে।

সত্যি কথা বলতে কি, প্রথম দুই মাস কিন্তু আমার ওজন আর বাড়েনি। কারণ নিয়মিত হাঁটতাম, বাইরে কম খেতাম। বাসা থেকে খাবার রেডি করে নিয়ে যেতাম। কিন্তু এরপর শুরু হলো সেমিস্টারের প্রেশার। আমার জন্য একদম নতুন সাবজেক্ট। দিনরাত পড়ি, আর কাঁদি। চরম ডিপ্রেশন। রান্না করার সময় পাই না, ডায়েট চার্টের খাবার রেডি তো দূরে থাক। আবার শুরু হলো বাইরে খাওয়া, এক্সারসাইজ ফাঁকি দেওয়া। তার মধ্যে এখানে প্রায়ই বিভিন্ন বাসায় দাওয়াত থাকে। এখানকার ভাই ভাবীদের রান্না অসাধারণ। যার ফলাফল, হু হু করে ওজন বৃদ্ধি।

এ বছর জানুয়ারি মাসে ওজন গিয়ে দাঁড়ালো ৭২ কেজিতে। এবার একটু সতর্ক হলাম। জিমে গিয়ে ট্রেডমিলে দৌঁড়াতাম, বাসায় ক্রস ট্রেইনার কিনলাম, নিউট্রিশনিস্টের কাছ থেকে ডায়েট চার্ট নিলাম, যার ফলে ওজন আবার কমতে শুরু করলো। কিন্তু এ ধারাও থাকলো না বেশিদিন। আবার এলো সেমিস্টারের প্রেশার। এমনও দিন গেছে যে সকাল থেকে শুরু করে রাতের দুইটা পর্যন্ত ল্যাবে পড়ে আছি। সব এক্সারসাইজ ডায়েট ইত্যাদি চূলায় গেল। আমি মহানন্দে মটু হতে লাগলাম।

সেমিস্টার শেষ হতেই ভাবলাম এবার কিছু একটা করতে হবে। চিন্তা করতে করতেই পেরিয়ে গেল পনের দিন। তখন আমার ওজন ৭৬ কেজি। এরপর গত ২৬শে মে থেকে শুরু করলাম OMAD. কয়েকদিন করেই বুঝতে পারলাম এই ডায়েট আমার জন্য উপযুক্ত না। আমি দুর্বল হয়ে গেলাম। প্রায়ই চিটিং করে ফেলতাম। আরো কিছু সমস্যা দেখা দিলো। খোঁজ করা শুরু করলাম একটা হেলদি ডায়েট চার্টের। যেটা আমি ঠিকমতো ফলো করতে পারবো।

এইভাবে খোঁজ পেয়ে গেলাম ছোটো ভাই Ratul Dutta এর ১২০০ ক্যালরি ডায়েট চার্ট (লেভেল ২) এর। ফলো করা শুরু করলাম। শুধু খাবারই নয়, হাঁটাহাঁটি এবং কার্ডিও এক্সারসাইজও স্ট্রিক্টলি ফলো করেছি। কয়েকদিন খুব কষ্ট হলো। এক সপ্তাহ পর দেখলাম, আমার কেমন যেন মন ভালো হয়ে গেছে, উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়ে যাচ্ছে। আমি তার দেওয়া এক্সারসাইজ এবং হাঁটাহাঁটির বাইরেও রাতে এক ঘন্টা করে হাঁটা শুরু করলাম। আর দিনে দশ মিনিট ক্রস ট্রেইনার। খুব ভালো ঘুম হতে লাগলো। ডিপ্রেশন কমে গেল। শরীরটাও হালকা লাগতে লাগলো। গতকাল সাহস করে বিপাশা বাসুর ৩০ মিনিট এরোবিক ড্যান্স করে ফেললাম। এরপর ওজন নিলাম। দেখলাম ৭০ কেজি। আনন্দে ছবি তুলে ফেললাম।

ডানপাশের ছবিটি গত ২৫শে মে তে তোলা। বামপাশেরটি গতকাল। এ পর্যন্ত ওজন কমেছে ছয় কেজি। আশা করছি আরো ছয় সাত কেজি আগামী তিনমাসে কমিয়ে ফেলতে পারবো।

কিছু টিপস্:
১. যারা ওজন কমিয়ে ফেলেছেন, তারা কখনোই ওজন কমে গেছে এটা চিন্তা করে আমার মতো ওভারকনফিডেন্ট হয়ে যাবেন না। সবসময় একটা নিয়মে থাকবেন। বিশ্বাস করেন, প্রথমবার ওজন কমানোর চাইতে দ্বিতীয়বারের জার্নিটা আরো বেশি ভয়াবহ এবং কষ্টকর হয়।

২. এক্সারসাইজ এবং ডায়েটকে লাইফস্টাইলের অংশ করে নিন। প্রেশার বা বাড়তি কাজ হিসেবে নেবেন না। তাহলে প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও এসবের পেছনে সময় দেওয়াটা কষ্টকর হবে না।

৩. চিটিং করবেন। তবে সেটাও হেলদি ওয়েতে করার চেষ্টা করবেন যদি আপনি ওবেইজ হন। আমি চিটিং করি রোস্টেড পিনাট খেয়ে, রেস্টুরেন্টে গিয়ে চিকেন সালাদ খাই যেটা ওরা চোখের সামনে বানিয়ে দেয়। সেখানে ড্রেসিং হিসেবে ফ্যাট ফ্রি রেঞ্চ বা হানি মাস্টার্ড নিই। চিটিং করতে গিয়ে পিৎজা বা বার্গার খাওয়ার চাইতে অনেক বেশি হেলদি হয়। আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে হলে জুস বার খাই। রিয়েল ফ্রুট জুস বরফে জমিয়ে বানানো আইসক্রিম।

ইগনোর মাই বিধ্বস্ত চেহারা। আধাঘন্টা নাচার পরে চেহারা আর কতো সুন্দর হয় বলেন!

আমাদের উদ্দেশ্য টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক তথ্য দিয়ে সবাইকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা এবং বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলতে অনুপ্রাণিত করা। আমরা বিশ্বাস করি একজন মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা মানে এর পাশাপাশি তার পরিবারকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলা। এভাবে আমরা একদিন দেশের সব পরিবারে সুস্বাস্থ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব।

Leave a comment

Leave a Comment

0 Shares
Tweet
Share
Share
Pin